প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় খালেদার জামিন

বেগম খালেদা জিয়া তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্যে আবেদন করেছেন। এই আবেদন এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলেছে, খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি হবে কিনা, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন কিনা কিংবা তার এই আবেদনের ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকেই আইন মন্ত্রণালয় তাকিয়ে রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আগে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের বিশেষ বিবেচনায় জামিন দেওয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে এসেছিল এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছিল মাত্র। কাজেই বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

ফৌজদারি কার্যবিধি যে ধারায় বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়েছিল সেই ধারায় বলা হয়েছে যে, সরকার নির্বাহী আদেশে যেকোন দণ্ডিত আসামীর সাজা স্থগিত করে তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে পারে। কাজেই যেহেতু প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাহী প্রধান, কাজেই তিনি যেকোন দণ্ডিত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করে আপতকালীন সময়ের জন্যে মুক্তি দিতে পারে।ফৌজদারি কার্যবিধির সেই ধারা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেতে এখনো প্রধানমন্ত্রীর কোন সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। এদিকে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের দুজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চান।বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, তার জামিনের যৌক্তিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানাতে চান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংক্রমণের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং পারত পক্ষে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই বিবেচনায় এখন বেগম খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম এস্কান্দার এবং তার বোন সেলিনা ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পাবেন কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। তবে সাক্ষাত না পেলে টেলিফোনেও তারা আলাপ করতে পারেন যেকোন সময়ে- এমন আভাস দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন যে, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই

যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং তারা আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রী গতবার যেমন মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে,এবারও সেরকম মহানুভবতার পরিচয় দেবেন।তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যে আবেদনটি করেছেন সেই আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে এবং যেটা আসলে সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। একজন সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিনের আবেদন করেছেন, তবে স্থায়ী জামিনের কোন বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নেই এবং বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, স্থায়ী জামিনের আবেদন করতে গেলে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে হবে এবং সেই আবেদনে নিজের দোষ স্বীকার করে অনুতপ্ত হতে হবে। তবেই রাষ্ট্রপতি তার দণ্ড মার্জনা করতে পারেন। এটা রাষ্ট্রপতির একটি সাংবিধানিক এখতিয়ার।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় দ্বিধান্বিত তা হলো বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি। কারণ বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং আরও অনেকগুলো মামলায় তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান। এই প্রক্রিয়ায় বেগম খেলদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে কিনা এটাও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।কারণ আমাদের সংবিধানের মূল চেতনার জায়গা হচ্ছে আইন সকলের জন্যে

সমান। আর এই সমস্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে আসলে সরকারের মনোভাব কি এবং সরকার কি চিন্তাভাবনা করে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর উপর এবং প্রধানমন্ত্রী আজ সম্পাদক মণ্ডলীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বলেছেন যে, মানবিক কারণে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন।কিন্তু মানবিক কারণে তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে কিনা এবং মানবিক কারণে তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কিনা

তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ভেতরে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি রয়েছে বলে একাধিক সূত্রগুলো জানিয়েছে এবং এদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছেন যে,বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া কোনভাবেই উচিত হবেনা, বরং তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও তাকে দেশেই চিকিৎসা নিতে বলা উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কি সিদ্ধান্ত নেবেন তার উপরে নির্ভর করছে খালেদার জামিনের ভবিষ্যৎ। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

About News24

Check Also

যে কারণে তিন মাস রাত জেগে কবর পাহারা দেবে পরিবার!

ঝড় ও বৃ-ষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় ব-জ্রপাতে মৃ-ত্যুর ঘ-টনায় যেমন আত-ঙ্ক বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে …